রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ডায়াসে দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে পড়ে যান। নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় উঠে দাঁড়ালেও পরে আবার বসে পড়েন। শেষ পর্যন্ত বসে থেকেই তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
শনিবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তব্য দেন ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর শহীদ পরিবার ও আহত সদস্যরাও।
সমাপনী বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াত আমির বলেন, “একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। জামায়াত যে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়বে, তার প্রথম প্রমাণ হচ্ছে...” — ঠিক এই পর্যায়ে হঠাৎই তিনি মঞ্চে পড়ে যান।
সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে থাকা নেতারা তাকে দাঁড় করান এবং কিছুটা সময় পর তিনি আবার মাইকে বলেন, “আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে আবার দাঁড়াতে পেরেছি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ আমরা সবাইকে নিয়েই গড়ব।” কিন্তু কিছু সময় না যেতেই তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে নিচে বসে পড়েন।
এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, “আমিরে জামায়াত সাময়িক অসুস্থ হয়েছেন, গরমের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তার পক্ষে এখন আর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।”
তবুও বসে থেকেই বক্তব্য চালিয়ে যান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “আল্লাহ যতদিন হায়াত দিয়েছেন, ততদিন মানুষের জন্য লড়াই করে যাবো ইনশা আল্লাহ। এ লড়াই বন্ধ হবে না, বাংলার মানুষের মুক্তি না আসা পর্যন্ত।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, “জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আমাদের কোনো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী সরকারি প্লট নেবেন না, ট্যাক্সফ্রি গাড়ি ব্যবহার করবেন না, নিজ হাতে অর্থ লেনদেন করবেন না। জনগণের অর্থের হিসাব জনগণকেই দেওয়া হবে।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি সহ্য করব না। বাংলাদেশকে আমরা দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাই। যুবকদের বলছি—তোমাদের সঙ্গে আমরা আছি।”
শরীরিক অসুস্থতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার মৃত্যু আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের এক সেকেন্ড আগেও হবে না। যতক্ষণ হায়াত দিয়েছেন, ততক্ষণ কথা বলব, কাজ করব।”
বক্তব্য শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে দাঁড়ান আমির। তখন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “প্রচণ্ড গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। আমাদের আমিরেও সাময়িক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আল্লাহর কৃপায় তিনি বক্তব্য শেষ করতে পেরেছেন।” এ সময় তাকে দুই পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করেন দলের সিনিয়র নেতারা।
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর পদ্ধতি) নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে এই জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। দুপুর ২টায় সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হয় এবং আমিরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়।
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, সমাবেশ শেষে শফিকুর রহমানকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে দলের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ চলছে।





